গলব্লাডারে স্টোন? দুশ্চিন্তা নয়, অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ হোন

গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে স্টোন হলে অনেক সময় ওষুধেই সেরে যায়। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিত্‍‌সকেরা অস্ত্রোপচারের পক্ষে মত দেন। আয়ুর্বেদে আস্থা রাখলে বিনা অস্ত্রোপচারে আপনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। এমনটাই মত চিকিত্‍‌সকের।

গলব্লাডারে স্টোন? দুশ্চিন্তা নয়, অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ হোন
গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে তৈরি হওয়া পাথর...

গলব্লাডারে স্টোন ধরা পড়েছে? ভয়ের কোনও কারণ নেই। গলব্লাডারে স্টোন ভ্যানিশ হয়ে যায় অপারেশন ছাড়াই। জানাচ্ছেন ডা. সমীর জোয়ারদার

ফোন: ৯৮৩১৬০৭২৬৬/৯৮৩০৫০৪৮৪৪

পেটে অসহনীয় যন্ত্রণা। গলব্লাডারে স্টোন রয়েছে শুনেই আতঙ্কিত হয়ে অপারেশন করাতে ছুটবেন। অপারেশন করালে আপনি হয়তো তৎক্ষণাৎ আরাম বোধ করবেন। নিজেকে বিপন্মুক্ত মনে করবেন। কিন্তু বাস্তবে একেবারেই তা নয়। আমি হলফ করেই বলছি এই অপারেশনের খারাপ প্রতিক্রিয়া সময়ের হাত ধরে আপনার উপর পড়বেই পড়বে। তা সে আপনি ওপেন সার্জারিই করুন। আর মাইক্রো সার্জারিই করুন। যা-ই হোক, এই সব বিতর্ক এড়িয়ে এখন বিশদ জেনে নিন গলব্লাডারে স্টোন সম্পর্কে।

চিকিৎসকদের কথা বিশ্বাস করবেন, মানবেন তো বটেই। কিন্তু তার আগে আখেরে গলব্লাডারে স্টোন বাস্তবে কী, জেনে নিন। এর পর নিজেরাই বিচার করতে পারবেন কোনটি ঠিক, কোনটি ভুল। তখন আপনি নিজেই সাহসে ভর করে হয়ে উঠবেন নিজের চিকিৎসক। তবে, আপনাকে অবশ্যই বিদেশি লাইফস্টাইল ছেড়ে ভারতীয় জীবনধারায় নিজেকে অভ্যস্ত করতে হবে।

Gallbladder Ston বা পিত্তথলিতে পাথর কেন হয় জানেন? না জানা থাকলে জেনে নিন। 
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় শরীরে  Cholesterol বেড়ে যাওয়ার কারণেই Gallbladder Stone হয়ে থাকে।  Cholesterol বাড়লে তা কোনও না কোনও কারণে Bailes এ জমা হয় এবং ধীরে ধীরে শক্ত হয়। 
সাধারণত Cholesterol Bailes এর বাইরে বের হতে দেয় না। আর cholesterol বাইরে বেরোতে না পেরে জমা হতে হতে তা ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে Stone এ পরিণত হয়। 

কাদের Gallbladder-এ  Stone হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?

১) যারা অত্যধিক মোটা তাদের শরীরে ফ্যাট, কোলেস্টেরল স্বাভাবিক ভাবেই বেশি থাকে।

২) যাদের ডায়বেটিস (সুগার) থাকে।

৩) অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া। অপরিমিত খাবার খাওয়া। কারণ: সুনির্দিষ্ট সময়ে দীর্ঘদিন ধরে না খাওয়া। আবার ফ্যাটযুক্ত খাবার একেবারেই না খেলে ওই খাবার হজমের জন্য  Bailes এর দরকার পড়ে না। ফলে, খুব স্বাভাবিক কারণেই ক্ষরণ হওয়া ওই  Bailes জমা হতে হতে তা Stone-এ পরিণত হয়।

৪) যাদের ম্যালেরিয়া হয় এবং যাদের দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে।

৫) যারা ওয়েলি অর্থাৎ অতিরিক্ত তৈলাক্তযুক্ত খাবার যেমন-- মাছ, মাংস, ডিম বেশি পরিমাণে খায়। এই ধরনের খাবার বেশি খেলে Gallbladder এ  Stone হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে বা হওয়ার প্রবণতা বেশি হয়।

৬) শরীরে হাইড্রোজেন হরমোন বাড়লেও Gallbladder-এ স্টোন হয়ে থাকে।

৭) কন্ট্রাসেপ্টি পিল বেশি খেলেও গলব্লাডার স্টোন হয়ে থাকে। 

এই রোগের বিশেষ কিছু লক্ষণ

Silent Stone হলে খুব সহজে তা বোঝা যায় না। তবে, হজমের খুবই গোলমাল হয়ে থাকে। খুব গ্যাস হয় শরীরে। আর যখন পেটে যন্ত্রণা শুরু হয়, তখন টানা ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বরও আসতে পারে।

সাধারণত মানব দেহে ৩ ধরনের স্টোন হয়ে থাকে।

১)  কোলেস্টেরল স্টোন (Cholestrol Stone): ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এই স্টোন হয়। এই স্টোন হলুদ কিংবা সবুজ রঙের হয়ে থাকে।

২) Pigment Stone: Blirubine, Culcium, Fosfet- এর সংমিশ্রণে তৈরি হয় এই পিগমেন্ট স্টোন। এর রং কালো বা ধূসর (ছাই)-এর মতো হয়।

৩) Mixed Stone: এই স্টোন হয় Blirubine, Cholesterol & Culsium Carbonet - এর সংমিশ্রণে।
 

যদিও গলব্লাডার স্টোন শরীরের ভিতরে অবস্থান অনুযায়ী ২ ভাগে ভাগ করা হয়।

১) শরীরের ভিতরে Stone Gallbladder-এ অবস্থান করলে বলা হয় কলেলিথিসিস (Calelithisis)। 
২) Stone যদি Gallbladder থেকে নালীতে যায় তাকে বলা হয় কলিকলিথিসিস (Colicolithisis)।

গলব্লাডারে স্টোন হলে আপনি নিজেই কী ভাবে যন্ত্রণা থেকে উপশম এবং মুক্তি পাবেন, জানুন সেই সম্পর্কে।
 গলব্লাডারের প্রকারভেদগুলো জানার পর অনেকেই প্রাথমিক ভাবে কী কী পদক্ষেপ করা উচিত, তা বোধ করি অনেকটাই আন্দাজ করতে পারছেন। তবুও জ্ঞাতার্থে জরুরি কিছু বিষয় উল্লেখ করছি। 

১) প্রথমত, বিদেশি লাইফস্টাইল ছেড়ে ভারতীয় লাইফস্টাইলেই জীবনযাপন করতে হবে।

২)গলব্লাডারে স্টোন হলে শরীর সাধারণত অ্যাসিডিক থাকে তাই নিয়ম করে, নিয়মিত প্রচুর মাত্রায় জলপান করতে হবে।

৩) প্রথম নামটি কোলেস্টেরল স্টোন। যা শরীরের কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণেই হয়ে থাকে। সুতরাং আপনাকে ভোজন করতে হবে লো ফ্যাট, হাই প্রোটিন।

৪) একেবারেই তেল-মশলা যুক্ত গুরুপাক খাবার, নুডুলস, বেকারি জাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে।

৫) জল উষ্ণ কিংবা সাধারণ খেতে হবে বসে চায়ের মতো করে।

৫) ঠান্ডা জল সহ অন্যান্য কোন কিছু খাওয়া যাবে না।

৬) আপনার ভোজন হবে সর্বদাই ক্ষারীয় খাবার।

৭) প্রত্যহ শরীরের ওজন অনুপাতে আপনাকে নিয়ম করে কাঁচা সবজি খেতে হবে।

৮) শরীরকে ঠান্ডা করতে হবে।

আর অবশ্যই শরীরের পরিস্থিতি অনুযায়ী একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পাথরকুচি গাছকে গলব্লাডারের স্টোন ভাঙতে ব্যবহার করতে হবে। সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন।