মোদী বিকাশ! পাকিস্তান-বাংলাদেশের চেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ বেশি ভারতে

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত 'বিশ্ব ক্ষুধাসূচক ২০২১'-এ (World hunger index 2021) দেখা যাচ্ছে, ১১৬ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬। এই তালিকায় পাকিস্তান ৯২, ভারতের অবস্থান ১০১ নম্বরে। ক্ষুধা সূচকে ভারতের পেছনে মাত্র ১৫টি দেশ রয়েছে।

মোদী বিকাশ! পাকিস্তান-বাংলাদেশের চেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ বেশি ভারতে
ছবি: সংগৃহীত, সৌজন্যে গেটি ইমেজেস

নয়াদিল্লি: ভারতের বিকাশ নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের অহংকারের ফানুস আরও একবার চুপসে দিয়ে গেল বিশ্ব ক্ষুধাসূচক (Global Hunger Index 2021)। ডিজিটাল ভারতের স্বপ্ন দেখা নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। সবচেয়ে লজ্জার-- পাকিস্তান, বাংলাদেশের থেকেও অনাহারে, অপুষ্টিতে থাকা মানুষ বেশি ভারতে। রিপোর্টের নিরিখে ভারত ও পাকিস্তানের থেকে অনেকটাই ভালো অবস্থানে রয়েছে শেখ হাসিনার দেশ। পড়শি এই দু-দেশের তুলনায় ক্ষুধার্ত মানুষ কম রয়েছে বাংলাদেশে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত 'বিশ্ব ক্ষুধাসূচক ২০২১'-এ (World hunger index 2021) দেখা যাচ্ছে, ১১৬ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬। এই তালিকায় পাকিস্তান ৯২, ভারতের অবস্থান ১০১ নম্বরে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপালও বাংলাদেশের সমানসংখ্যক ৭৬ পয়েন্ট পেয়েছে। দেশে অপুষ্টি ও অনাহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কী অভূতপূর্ব সাফল্যলাভ করে, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে, তার জন্য একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। ২০১৮ সালে বিশ্ব ক্ষুধাসূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৬। সেখান থেকে ২০১৯ সালে একই সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮-তে নেমে গিয়েছিল। ২০২০ সালের ১০৭টি দেশের মধ্যে বিশ্ব ক্ষুধাসূচকে বাংলাদেশ উঠে আসে ৭৫ নম্বরে, এ বার ২০২১-এ, করোনা অতিমারির কঠিনতম সময়েও শেখ হাসিনার দেশের অবস্থান ৭৬। মায়ানমার রয়েছে ৭১ নম্বরে। বিশ্ব ক্ষুধাসূচকের এই রিপোর্টটি তৈরি করে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট। 

ক্রম-তালিকা তৈরি হয় অপুষ্টি, পাঁচ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে কম ওজন ও উচ্চতার অনুপাত, পাঁচ বছরের নীচে শিশুমৃত্যুর হার ইত্যাদির ভিত্তিতে। অর্থাত্‍ কোনও দেশে শিশুদের পুষ্টি-বৃদ্ধির হার কেমন, শিশুমৃত্যু কত কম বা বেশি, এইসব বিচার বিবেচনা করেই এই ক্রম-তালিকা তৈরি করে মার্কিন রিসার্চ সেন্টার ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি। পরবর্তীকালে আইএফপিআরআই-এর সঙ্গে জোট বাঁধে জার্মানির ওয়েল্থ হাঙ্গার লাইফ এবং আইরিশ এনজিও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড। 

ক্ষুধা সূচকে ভারতের পেছনে মাত্র ১৫টি দেশ রয়েছে। এসব দেশের বেশির ভাগই আফ্রিকার দরিদ্র দেশ। ভারতের পেছনে থাকা দেশগুলো হল পাপুয়া নিউগিনি, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, কঙ্গো, মোজাম্বিক, সিয়েরা লিওন, পূর্ব তিমুর, হাইতি, লাইবেরিয়া, মাদাগাস্কার, গণতান্ত্রিক কঙ্গে প্রজাতন্ত্র, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ইয়েমেন ও সোমালিয়া। আর এই তালিকায় সবচেয়ে উপরের দিকে আছে চিন, ব্রাজিল ও কুয়েত।

এই সূচক অনুসারে কোনও দেশের জিএইচআই যদি 'শূন্য' হয়,  তা হলে সে দেশ অনাহারের কালোছায়া থেকে মুক্ত। র‍্যাংক যত বাড়ে দুশ্চিন্তাও তত বাড়ে। সূচক যদি ৫০ ছাড়িয়ে যায়, তার মানে সেই দেশে অনাহার, শিশুমৃত্যু বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। ২০১৪ সালে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ৭৬টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ছিল ৫৫। ২০১৬ সালে অবস্থার আরও অবনতি হয়। ১১৮টি দেশের মধ্যে ভারতের র‍্যাংক হয় ৯৭। ২০১৭ সালে ১১৯টি দেশের মধ্যে নেমে যায় ১০০-তে। ২০১৮ সালে ১১৯টি দেশের মধ্যে ভারতের জায়গা ছিল ১০৩ নম্বরে, ২০১৯ সালে ১১৭টি দেশের মধ্যে এ দেশ দাঁড়িয়ে ছিল ১০২ নম্বরে। 

জিএইচআই-এর (World Hunger) রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অনাহার ও অপুষ্টির নিরিখে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ভারত (Hungry People in India)। এ থেকে প্রমাণিত, শুধু জিডিপি বাড়িয়ে দেশের মানুষের খাদ্য আর পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।'

এ ইনডেক্সে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া। বিশ্ব ক্ষুধাসূচকে সোমালিয়ার পয়েন্ট খুব কম, যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আরও ৫টি দেশের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সেই দেশগুলো হল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, মাদাগাস্কার ও ইয়েমেন। সূচকে একাধিক সংকটের মোকাবিলায় বিশ্বে ক্ষুধা পরিস্থিতির দিকে নির্দেশ করে।

রিপোর্টে প্রকাশ, গত বছর শিশুমৃত্যুর হারে ভারতের অবস্থান ছিল সবচেয়ে খারাপ। এই শিশুমৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশটির তীব্র অপুষ্টিই প্রতিফলিত হয়। অথচ, গত বছরই ভারতের স্থান ছিল ৯৪ নম্বরে, সেখান থেকে সোজা ১০১-এ নেমে এসেছে। 

ALSO READ: আজও আছে পুজোর গান

২০০৫-০৬ সালে ভারতে ৫ অনূর্ধ্ব শিশুর ৭০ শতাংশ ছিল অপুষ্টিজনিত রোগের শিকার। ২০১৫-১৬ সালে দেশের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই হার ৩৮-৭৮ শতাংশের মধ্যে। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষাও বলছে, দেশে পাঁচ বছরের নীচে থাকা প্রায় ৫৮ শতাংশ, অর্থাত্‍ প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিশু রক্তাল্পতায় ভোগে। বয়সের তুলনায় ওজন কম সাড়ে চার কোটি শিশুর। যার মূল কারণ অপুষ্টি। হিমোগ্লোবিনের অভাবে এই শিশুরা ক্লান্ত হয়ে পড়ে সহজে। রোগের শিকার হয়। অপুষ্টির কারণে এদের মস্তিষ্কেরও পূর্ণ বিকাশ ঘটে না। 

WATCH: কোথায় উদ্বেগ, মহানবমীর রাতে জনস্রোত বাংলাদেশে!

২০৩০-কে টার্গেট করে ক্ষুধামুক্ত বিশ্বের যে লক্ষ্যে রাষ্ট্রপুঞ্জ নেমেছে, ক্রমশ সেই লড়াই কঠিনতর হয়ে উঠছে। যুদ্ধ-সংঘাত, করোনা মহামারী ও জলবায়ু পরিবর্তন রাষ্ট্রপুঞ্জের জন্য এই লড়াইটা কঠিন করে তুলছে। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই)-এ দাবি করা হয়, বিশ্বের ৪৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে কম ক্ষুধা সূচক ইনডেক্স উত্তরণে ব্যর্থ হবে।

ছবি: সংগৃহীত, সৌজন্যে গেটি ইমেজেস