NeoCov-এর 'সম্ভাব্য বিপদ' নিয়ে আরও গবেষণা চাই, বলল WHO

MERS-CoV-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ভাইরাস ভ্যারিয়েন্টকে নিয়োকোভ (NeoCoV) হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। MERS-CoV আবার বৃহত্তর করোনাভাইরাস পরিবার-ভুক্ত। এটি এ পর্যন্ত জানা সাতটি করোনাভাইরাসের একটি, যা মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম।

NeoCov-এর 'সম্ভাব্য বিপদ' নিয়ে আরও গবেষণা চাই, বলল WHO

নয়াদিল্লি: নিয়োকোভ (NeoCov) থেকে মানুষের শরীরে 'সম্ভাব্য বিপদ' কতটা, তা বুঝতে আরও বিশদ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। করোনাভাইরাসের (Coronavirus) এই ভ্যারিয়েন্ট (উচ্চারণ ভেদে নিওকোভ বা নিয়োকভ ) নিয়ে শুক্রবারই সতর্ক করেন উহানের বিজ্ঞানীরা। দাবি করা হয়, নিয়োকোভের 'মারণ ক্ষমতা' এখনও পর্যন্ত জানা ভ্যারিয়েন্টগুলির তুলনায় অনেকটাই বেশি। প্রতি তিন সংক্রমিতের মধ্যে একজনের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। স্বভাবতই উহানের বিজ্ঞানীদের এই দাবি ঘিরে নতুন করে উত্‍‌কণ্ঠার সৃষ্টি হয়।

উহানের গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাদুড়ের শরীরে করোনাভাইরাসের নিয়োকোভ স্ট্রেনটি ছড়াচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে WHO-র বিজ্ঞানীদের উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা TASS জানাচ্ছে, গবেষণায় নতুন শনাক্ত হওয়া ভ্যারিয়েন্টটি মানবশরীরে কতটা ঝুঁকির, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা করতে হবে।    

'হু' আরও জানিয়েছে, করোনার নতুন এই 'জুনোটিক ভাইরাস' (zoonotic viruses) সম্পর্কে বিশদ তথ্যের জন্য তারা ওয়ার্ল্ড অরগানাইজেশন ফর অ্যানিম্যাল হেলথ (OIE), ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অরগানাইজেশন (FAO) ও ইউনাইটেড নেশন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (UNEP)-এর সঙ্গে সমন্বয় রাখছে।

মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়া সংক্রামক অসুখের ৭৫ শতাংশের জন্য দায়ী প্রাণীরা, বিশেষত বন্যপ্রাণীরা। করোনাভাইরাসও বাদুড়ের মতো প্রাণীর শরীরে প্রায়ই পাওয়া যায়। শুধু করোনাভাইরাস নয়, একাধিক ভাইরাসের 'প্রাকৃতিক ধারক' হল বাদুড়।                      

।। NeoCoV কী

MERS-CoV-এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ভাইরাস ভ্যারিয়েন্টকে নিয়োকোভ (NeoCoV) হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। MERS-CoV আবার বৃহত্তর করোনাভাইরাস পরিবার-ভুক্ত। এটি এ পর্যন্ত জানা সাতটি করোনাভাইরাসের একটি, যা মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম।

এই মার্স-কোভের (MERS-CoV) কারণে ২০১০ সালে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অতিমারি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

।। মারণ MERS-CoV

WHO-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মার্স-কোভে নথিভুক্ত আক্রান্তের মধ্যে ৩৫ শতাংশই মারা গিয়েছেন। নতুন শনাক্ত হওয়া নিয়োকোভও এই মার্স-কোভের সম্ভাব্য ভ্যারিয়েন্ট বলে মনে করা হচ্ছে। যে কারণেই উহানের বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।

।। বিপদ থেকে আর একধাপ দূরে  

উহানের গবেষণাপত্র অনুযায়ী,  NeoCoV মার্স-কোভের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুপক্ত। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাদুড়ের শরীরে এর সন্ধান মিলেছে। বাদুড়ের ACE2 (রিসেপ্টর কোষ) কোষকে এটি কাজে লাগায়। T510F মিউটেশনের পর  NeoCoV মানুষেরও ACE2  কোষকে সংক্রমিত করবে। এ জন্য ভাইরাসটির আর একটি মিউটেশনই বাকি রয়েছে বলে চিনা গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

দুশ্চিন্তার কারণ হল, নিয়োকোভ সংক্রমিত হলে বাজার চলতি কোনও ভ্যাকসিনেই তাকে নাকি রোখা যাবে না। যদিও রুশ বিজ্ঞানীরা আশ্বস্ত করছেন, এক্ষুনি  এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যাতে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টকে ভয় পেতে হবে। বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে, এমনটা তাঁরা মনে করছেন না।

তার পরেও বলতে হয়, সাবধানের মার নেই। তাই নিয়োকোভকে হালকা ভাবে না নিয়ে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তা পর্যালোচনা করে দেখছে।       

ALSO READ| TMC Joining: বীরভূমে পদ্ম শিবিরে ভাঙন, মোহভঙ্গে 'ঘরওয়াপসি' পুরনো তৃণমূলিদের