নুসরাত-সোহম এই প্রথমবার জুটি বাঁধলেন, আসছে ‘জয় কালী কলকাত্তাওয়ালি’

বাংলা ছবিতে এই প্রথমবার জুটি বাঁধলেন নুসরাত জাহান (Nusrat Jahan) ও সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty)। সুদেষ্ণা রায় (Sudeshna Roy) ও অভিজিত্‍‌ গুহ (Abhijeet Guha)-র পরিচালনায় ‘জয় কালী কলকাত্তাওয়ালি’ ( Joy Kali Kolkatawatwali) ছবিতে এই জুটিকে দেখা যাবে। ছবির শ্যুটিং শেষ হয়েছে বলে জনালেন সুদেষ্ণা রায়।

নুসরাত-সোহম এই প্রথমবার জুটি বাঁধলেন, আসছে ‘জয় কালী কলকাত্তাওয়ালি’

।। সঙ্কর্ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিজিত্‍‌ গুহ (Abhijeet Guha) এবং সুদেষ্ণা রায় (Sudeshna Roy) পরিচালিত ‘জয় কালী কলকাত্তাওয়ালি’ (Jai Kali Kolkatawatwali) ছবির শ্যুটিং শেষ হল। গোটা কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে ছবির শ্যুটিং হয়েছে। কিছুদিন আগে মাতৃহারা হয়েছেন অভিজিত্‍‌ গুহ। কাজেই একার কাঁধে গোটা পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে সুদেষ্ণাকে। অনীশ, সুজয় এবং মিলির চরিত্রে রয়েছেন যথাক্রমে সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty), সোমরাজ মাইতি ও সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। ছবিতে এরা সকলেই ভদ্রবাড়ির ছেলেমেয়ে। কিন্তু চাকরির অভাবে চুরিবিদ্যাকেই রপ্ত করতে হয়েছে।

সুদেষ্ণার কথায়, ‘ছবিটা একটা ফান-থ্রিলার। কালীমূর্তি চুরিকে কেন্দ্র করে ছবির গল্প এগিয়েছে।’ শহরতলির একটি মন্দির থেকে একটি সুন্দর কারুকাজ করা সোনার কালীমূর্তি চুরি হয়। সেখানে থেকেই শুরু হয় ঝামেলা। কিন্তু ঘটনাচক্রে চোরদের গোপন আস্তানা থেকে ফের খোওয়া যায় মূর্তিটি। কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সেই কালী মূর্তির খোঁজ চলছে।

অনীশ, সুজয় ও মিলি তিন বন্ধু কলকাতায় থাকে। শিক্ষিত অনীশ চাকরি খুঁজছে মরিয়া হয়ে। সুজয় একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। তাঁর স্বপ্ন ব্যবসা করার, কিন্তু কোনও অর্থ সংস্থান নেই। তবে সে অত্যন্ত শক্তিশালী ও চটপটে। অন্য দিকে মিলি, অভিনেত্রী হতে শহরে এসেছে। কিন্তু কোনও যোগাযোগ না-থাকায়, কাজ পাওয়া তার জন্য কঠিন। এরা একে অপরের কষ্টে সান্ত্বনা খুঁজে পায়। সত্‍‌পথে উপার্জনের আশা না দেখে, তারা ঠিক করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে, একসঙ্গে অর্থ উপার্জন করবে।

একবার ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচার সময় অনীশ রাস্তায় পার্ক করা একটি স্কুটি নিয়ে পালায়। একেবারে নতুন স্কুটিটি ছিল রাকার (নুসরাত জাহান)। যিনি একজন নৃত্য শিক্ষিকা। চিন্তিত রাকা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। রাকার সঙ্গে তার দেখা হলে, অনীশ তাকে মিথ্যে বলে। জানায়, স্কুটিতে বোমা থাকার কারণে তাকে বাঁচাতেই এই পদক্ষেপ করেছে সে। অনীশের কথা শুনে তার প্রতি ভালোলাগা তৈরি হয় রাকার। ধীরে ধীরে অনীশের সঙ্গে মিথ্যে-ভরা প্রেম শুরু হয় রাকার। হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া কালীমূর্তিটির সন্ধান পায় রাকা। সে অনীশকে পুলিশ ভেবে তাঁর কাছে নিয়ে আসে মূর্তিটি।

ALSO READ| বাংলা গানের চর্চায় বাধা হয়নি আমেরিকা, অনাবাসী কুশলের পুজোর গান এ বারও হিট

এ ভাবেই একের পর এক ঘটনার ফলে তাঁদের চার জনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যায় মূর্তিটি। একদিকে রাকা- অনীশের প্রেম, অন্য দিকে কালীমূর্তি। আবার সিআইডি কালীমূর্তির পাশাপাশি তিন প্রতারককেও খুঁজছে। শেষ পর্যন্ত কি কালীমূর্তিটি পাওয়া যাবে? নাকি মা কালী প্রতারকদের রক্ষা করবেন?

কমেডির পাশাপাশি ছবিতে রয়েছে সাসপেন্স। কলকাতার বেশ কয়েক'টি লোকেশনে চলছে ছবির শ্যুটিং। শেষ দিনের শ্যুটিংয়ের ফাঁকে সোহম জানালেন, ছবিতে তাঁর চরিত্রটি চুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু সে ‘নির্দোষ’ চোর, কারও বিশেষ ক্ষতি করে না।  মজার ছবির শ্যুটিংয়ে মজাও হচ্ছে দেদার। মিলি অর্থাৎ সুস্মিতা বললেন, ‘আমি রিয়েল লাইফেও একেবারে শান্তশিষ্ট নই। এখানে আমার চরিত্রটাও সেরকমই। চুরি করে, পকেট মেরে বেড়াই। ছবির চিত্রনাট্যটা এতটাই মজার, আমরা শ্যুটিং করতে গিয়ে নিজেরাই হেসে ফেলছি। হেসে ফেলার পর রিটেক দিতে হচ্ছে বারবার। এটাই সমস্যার।'

সুদেষ্ণা রায় কিন্তু প্রতিটা দৃশ্য একেবারে নিজে অভিনয় করে অভিনেতাদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এই ছুটে পালানোর দৃশ্যটিতেই সুদেষ্ণা প্রথমে নিজের ইউনিটের লোকজনের সঙ্গে রিহার্সাল দিয়ে জায়গাগুলো মার্ক করে দিলেন। এর পর অভিনেতাদের দিয়ে রিহার্সাল করিয়ে নিয়ে তার পরেই ফাইনাল টেক নিলেন।

ALSO READ| Antardhaan | বাংলা চলচ্চিত্রে আরও এক গোয়েন্দা চরিত্র! আসছে অরিন্দমের 'অন্তর্ধান'

এই প্রথম বড়পর্দায় কাজ করছেন ছোটপর্দায় জনপ্রিয় অভিনেতা সোমরাজ। তিনি বলছিলেন, ‘টেলিভিশন আর বড়পর্দার কাজের ক্ষেত্রে সেরকম পার্থক্য নেই। বরং টেলিভিশনের কাজ এখন অনেকটা রিল্যাক্স হয়ে করা যায়। একটা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে কাজ করতে হয়। ছবির কাজ ঘুরে ঘুরে শ্যুটিং করতে হয়। রানাদা (অভিজিৎ)-সুদেষ্ণাদির সঙ্গে এর আগে আমি দুটো কাজ টেলিভিশনে করেছি। কাজেই আমরা উভয় উভয়ের কাজের সঙ্গে পরিচিত।’

'জয়কালী কলকত্তায়ালি'-র সংগীত পরিচালনা করছেন জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও স্যাভি। সিনেমাটোগ্রাফারের দায়িত্বে রয়েছেন বাসুদেব চক্রবর্তী। সম্পাদনা করবেন সুজয় দত্ত রায়। শিল্প নির্দেশনা তন্ময় চক্রবর্তী ও সুভাষ সাহার। শ্যাডো ফিল্মসের প্রযোজনায় 'জয়কালী কলকত্তায়ালি' ছবির শ্যুটিং শেষে চলছে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ।