Peperomia: লুচিপাতা 'আগাছা' হলেও হেলাফেলার নয়, ভেষজগুণে সারবে সহস্র রোগ

লুচিপাতা উপড়ে না-ফেলে, এ বার থেকে সংরক্ষণ করুন। আগাছা নয়, সংরক্ষণ করুন ভেষজ গাছ হিসেবে। অসময়ে, আপদে-বিপদে কাজ দেবে।  

Peperomia:  লুচিপাতা 'আগাছা' হলেও হেলাফেলার নয়, ভেষজগুণে সারবে সহস্র রোগ

|| আ-মরি বাংলা ডেস্ক

শৈশবের খেলনা-বাটির হেঁশেলঘরে এ গাছের পাতাই ছিল 'লুচি' (Peperomia)। সে সবই আজ অতীত। মাঝে কয়েক দশক। আজকাল বাচ্চারা খেলনা-বাটি খেলে না, মা-ঠাম্মার মোবাইলে গেম খেলে।  কিন্তু, গাছের নামটা 'লুচিপাতা'ই (Peperomia) থেকে গিয়েছে। কেউ বলেন, দীপ্ত লুচিপাতা  (Luchi-leaves)। নাম আরও আছে। 'পেপার এল্ডার', 'শাইনিং বুশ', 'ম্যান টু ম্যান'। তবে, দুনিয়া এক ডাকে চেনে পেপেরোমিয়া (Luchi pata) নামে। আমরা যাঁরা বাগান করি, তাঁদের কাছে এই গুল্মের কদর নেই। টবে বা অন্য গাছের গোড়ায় দেখলে, আগাছা হিসেবে সমূল উপড়ে ফেলি। কিন্তু, আগাছা হলেও হেলাফেলার নয়। প্রচুর গুণাগুণ রয়েছে লুচিপাতার (Luchi-leaves)। বিদেশে যে কারণে এর কদরও ভারি। ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহার হয়। এককালে বাংলা-বাঙালির হেঁশেলেও শাক হিসেবে রান্না হত লুচিপাতা। যে কোনও কারণেই হোক এখন হেঁশেলঘরে ব্রাত্য লুচিপাতার শাক। তবে, বাংলা-বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে শাক হিসেবে লুচিপাতা খাওয়ার চল এখনও টিকে রয়েছে। এতকিছু বলার কারণ, লুচিপাতা (Luchi pata) উপড়ে না-ফেলে, এ বার থেকে সংরক্ষণ করুন। আগাছা নয়, সংরক্ষণ করুন ভেষজ গাছ হিসেবে। অসময়ে, আপদে-বিপদে কাজ দেবে।  

প্রশ্ন হল, কেন সংরক্ষণ করবেন? করবেন, কারণ গুল্ম জাতীয় এই উদ্ভিদটি একাধিক রোগের ভেষজ দাওয়াই। ব্যথাবেদনা থেকে কিডনির অসুখ, কাটাছেঁড়া থেকে ফোড়া, বাঙালির বদহজম থেকে পরিপাক-- মুশকিল আসান হতে পারে আপনার অনাদরে থাকা লুচিপাতা। বিভিন্ন দেশে উদ্ভিদটিকে এথনোমেডিসিন (Ethnomedicine) হিসেবে নানান ভাবে ব্যবহার করা হয়। এথনোমেডিসিন হল, উদ্ভিদ এবং প্রাণীর জৈব ক্রিয়াশীল যৌগের উপর ভিত্তি করে চিরাচরিত ওষুধের এক গবেষণা। উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলে কোলেস্টেরল কমাতে এই উদ্ভিদটি ব্যবহৃত হয়। গুয়ানা এবং অ্যামাজন অঞ্চলে এর ব্যবহার হয় কাশি দমনকারী হিসেবে। আবার ত্বকের কোমলতা ধরে রাখতেও এর প্রয়োগ রয়েছে। এটি  মূত্রবর্ধকও। 

লুচিপাতায় পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিঙ্ক ও কপার রয়েছে। এ ছাড়া গাছের পাতায় বিভিন্ন রকমের ভিটামিন পাওয়া যায় । দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ওষুধ তৈরি করতে এই গাছের পাতা ব্যবহার করা হয়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও এ গাছের উল্লেখ রয়েছে। ফিলিপিন্স-সহ এশিয়ার একাধিক দেশে লোকে লুচিপাতার চা তৈরি করেও পান করেন। কারণ, তাঁরা মনে করেন লিচুপাতার চায়ের ভেষজগুণ মূত্রনালী বা রেনাল ডিজিজের মতো সমস্যা সারিয়ে তোলে।    

একনজরে গুণাগুণ 

লুচি পাতা অ্যান্টি-সেপটিক, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমৃদ্ধ। বাতের ব্যথা উপশমে এই পাতার ব্যবহার করা হয়। গোড়ালি, হাঁটু, পায়ের গাঁটের  বিভিন্ন ব্যথা নিরাময়ে সাহায্য করে

রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে, তা নিয়ন্ত্রণে কাজ দেয় লুচি পাতা

পাতার রস এক কাপ সকালে খালি পেটে পান করলে, পাইলসের রক্তক্ষরণ এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হয়

মূত্রনালীর চিকিত্‍সায় ভেষজ দাওয়াই 

ছোটখাটো আগুনে পোড়া বা চোটের ক্ষতে লুচি পাতা বেটে তার রস লাগালে, উপকার মেলে। পিচ্ছিল তরল ক্ষতের ড্রেসিং হিসাবে ব্যবহৃত হয়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। লুচি পাতায় থাকা আয়রন রক্তাল্পতায় কাজে দেয়

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। সর্দিজ্বরেও ভেষজ দাওয়াই। শারীরিক দুর্বলতা রোধ করতে সাহায্য করে। এই উদ্ভিদের শিকড় জ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়

শুঁয়োপোকা লাগলে এর ব্যবহারে উপকার হয়

ALSO READ| Microplastics in Human Lung: সাবধান, মানুষের ফুসফুসে চুপিসারে বাসা বাঁধছে মাইক্রোপ্লাসটিক! আঁতকে উঠলেন  বিজ্ঞানীরা

|| সংক্ষিপ্ত পরিচয়

বিজ্ঞানসম্মত নাম:Peperomia pellucida। গুল্ম জাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদ। এশিয়া মহাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ছায়াযুক্ত, স্যাঁতসেঁতে আবাসস্থলগুলিতে পাওয়া যায়। এটি জন্মায় গুচ্ছাকারে। আলগা, আর্দ্র মাটিতে এবং ক্রান্তীয় থেকে উপক্রান্তীয় জলবায়ুতে এদের সর্বাধিক জন্মাতে দেখা যায়। উদ্ভিদটির বেঁচে থাকার জন্য সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০° প্রয়োজন।  তাই শীতপ্রধান দেশে এটি খুব একটা পাওয়া যায় না। শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এর পাতা ও কান্ড ত্বকের প্রদাহে ভালো কাজ দেয়। রান্না করে এবং কাঁচা উভয়ভাবেই খাওয়া যেতে পারে। 

|| বিশেষ সতর্কতা

অ্যালার্জি বা হাঁপানির মতো সমস্যা থাকলে, এই গাছের পাতা এড়িয়ে চলাই ভালো।

ALSO READ| বায়োপসি করলে কি ক্যানসার ছড়ায়?