Pig Heart Transplant: শুয়োরের হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনে দিব্য ছিলেন, ডেভিড মৃত্যুর কী কারণ বলছেন চিকিত্‍‌সকেরা?

বিশ্ব প্রথমবার এক মার্কিনি ডেভিড বেনেট সিনিয়রের (David Bennett Sr) শরীরেই শুয়োরের হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন (Pig Heart Transplant) করা হয়েছিল। তবে, হৃদপিণ্ডটি ছিল জিনগত ভাবে পরিবর্তিত। সাধারণ শুয়োরের নয়। অস্ত্রোপচারের ৪০ দিন পর মারা যান বেনেট (World First Pig Heart Recipient)। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের ধারণা, শুয়োরের হৃদপিণ্ডে লুকিয়ে থাকা এক ভাইরাসই (porcine virus) মৃত্যুর কারণ।

Pig Heart Transplant: শুয়োরের হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনে দিব্য ছিলেন, ডেভিড মৃত্যুর কী কারণ বলছেন চিকিত্‍‌সকেরা?

|| আ-মরি বাংলা ডেস্ক

ম্যাসাচুসেটস: জেনেটিক্যালি মডিফাইড বা জিনগত ভাবে পরিবর্তিত (genetically modified pig heart) শুয়োরের হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের (Pig Heart Transplant) পর দিব্য ভালো ছিলেন ডেভিড বেনেট সিনিয়র (David Bennett Sr)। চিকিত্‍সকেরা দাবি করেছিলেন প্রতিস্থাপন সফল। ক্রমশ সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের মাসখানেক পর থেকেই ছবিটা দ্রুত বদলাতে থাকে। অসুস্থ হয়ে পড়েন বেনেট। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। সফল অস্ত্রোপচারের পর কেন মৃত্যু হল রোগীর, তা নিয়ে ধন্দে ছিলেন চিকিত্‍সকেরা।

মৃত্যুর বিশদ কারণও তখন জানানো হয়নি। অবশ্য জানা সম্ভবও ছিল না। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ‘পোরসাইন ভাইরাস'ই ডেভিড বেনেট সিনিয়রের (World First Pig Heart Recipient) মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। প্রতিস্থাপনের (Pig Heart Transplant) সময় এই ভাইরাসটি (Animal virus) শুয়োরের হৃদপিণ্ডে ছিল। যার জেরে মৃত্যু হয়েছে রোগীর। সম্প্রতি এক রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞরা।  ডেভিড বেনেটের শরীরেই বিশ্বে প্রথমবার জেনেটিক্যালি মডিফাইড শূকরের হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করেছিলেন এই বিশেষজ্ঞরা।

বছর ৫৭-র আমেরিকান বেনেটকে বাঁচাতে শেষ প্রচেষ্টা হিসাবে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন অস্ত্রোপচার করতে বাধ্য হয়েছিলেন চিকিত্‍সকেরা। রোগীর পরিবারের সম্মতি নিয়ে জেনেটিক্যালি এডিটেড শুয়োরের হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। অস্ত্রোপচারের ৪০ দিন পর গত জানুয়ারিতে তিনি মারা যান।

ALSO READ| ডেঙ্গি-ফাইলেরিয়াসিস ঠেকাতে তেচোখো মাছেই আস্থা গবেষকদের

ডেভিডের মৃত্যু জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন অপারেশনের ভবিষ্যত্‍ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। গবেষক চিকিত্‍সক দলটিও হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এই গোটা প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে থাকা বিশেষজ্ঞরা গত মার্চে বিবৃতি দিয়ে জানান,  হার্ট প্রতিস্থাপনের পর ডেভিডের ঠিক কী কারণে মৃত্যু হয়েছিল,  তা আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। যে কারণে সম্পূর্ণ রিপোর্টও সেসময় দেওয়া যায়নি। অস্ত্রোপচারের পর প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ড কয়েক সপ্তাহ ধরে ভালোই কাজ করছিল। শূকরের হৃদপিণ্ড শরীর বাতিল করেছে, এমন কোনও লক্ষণও দেখা যায়নি। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর হঠাত্‍ করেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মেরিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে তিনি মারা যান। এখানেই তাঁর অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছিল। 

ALSO READ| Adis Vittata: দক্ষিণ আফ্রিকার ভয়ংকর মশার হদিশ মিলল কলকাতায়

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির দাবি, বেনেটের শরীরে প্রতিস্থাপিত হৃদপিণ্ডটি আগে থেকেই পোরসিন সাইটোমেগালো ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিল। ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন বার্টলি গ্রিফিথ বলেন, বেনেটের এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমরা শিখতে শুরু করেছি। তবে, পোরসিন সাইটোমেগালো ভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়।  যার অর্থ, ভাইরাস-মুক্ত হৃদপিণ্ড হলে এই মার্কিনিকে আরও অন্তত কিছু দিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হতো। গ্রিফিথের কথায়, প্রতিস্থাপনের আগেই শুয়োরের হৃদপিণ্ডে থাকা ভাইরাসটিকে যাতে শনাক্ত করা যায়, সে দিকে আগে নজর দিতে হবে।  

ALSO READ| Microplastics in Human Lung: সাবধান, মানুষের ফুসফুসে চুপিসারে বাসা বাঁধছে মাইক্রোপ্লাসটিক! আঁতকে উঠলেন  বিজ্ঞানীরা