Remembering Tarun Majumdar by Prosenjit: তনু জেঠুর কাছে অভিনয়ের পাঠ, ছিলেন কড়া শিক্ষক

এ বার আমায় শিখতে হবে 'তনু জেঠু'র ছবি দেখে। ওঁর কাজ বাংলা এবং ভারতীয় সিনেমার গর্ব (Tarun Majumdar-Prosenjit Chatterjee)।

Remembering Tarun Majumdar by Prosenjit: তনু জেঠুর কাছে অভিনয়ের পাঠ, ছিলেন কড়া শিক্ষক

তখন আমি সাত কি আট। তনু জেঠুর সঙ্গে আমার প্রথম কাজ হিন্দি ছবি ‘রাহগীর’-এ। আমার বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘ছোটবেলা’টা আমি করেছিলাম।...  কথা-মালায় প্রয়াত পরিচালক তরুণ মজুমদারকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেন প্রসেনজিত্‍‌ চট্টোপাধ্যায়  

যে সমস্ত পরিচালকদের নিয়ে বাংলা ছবির দুনিয়া, আমরা, গর্বিত তাঁদের মধ্যে অন্যতম তরুণ মজুমদার (Tarun Majumdar)। আমার ‘তনু জেঠু’। টলিউড বরাবরই রত্নগর্ভা। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, অজয় কর, তপন সিংহ প্রকৃতির নিয়মে একটা সময়ের পরে আর ‘নেই’। আমাদের শেষ 'মহীরুহ' তরুণ মজুমদার। তিনিও চোখ বুজলেন। আমরা ফের অভিভাবকহীন হলাম (Tarun Majumdar)

এই মুহূর্তে আমি দেশের বাইরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে জানতে পারলাম তরুণ মজুমদার আর নেই (Tarun Majumdar-Prosenjit Chatterjee)। শুনে ভেঙে পড়েছি। ভেঙে পড়ার মতোই খবর। চারপাশটা কেমন যেন ফাঁকা লাগছে! মনে হচ্ছে, আমরা শেষ। আমাদের বাংলা ছবির দুনিয়ার ভাঁড়ার যেন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে!

তনু জেঠু আমার গুরু, আমার শিক্ষক। ওঁকে আমি সেই আসনেই বসিয়েছিলাম (Tarun Majumdar-Prosenjit Chatterjee)। বয়স হয়েছিল। অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন। তবুও বটগাছের মতো আমাদের মাথার উপরে ছিলেন তো।

প্রায় সবাই জানেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তরুণ মজুমদারের পরিচালনায় ‘পথভোলা’ আর ‘আপন আমার আপন’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। যেটা জানেন না, তনু জেঠুর সঙ্গে আমার প্রথম কাজ হিন্দি ছবি ‘রাহগীর’-এ। তখন আমি সাত কি আট। আমার বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘ছোটবেলা’টা আমি করেছিলাম। ছবিটি ১৯৬৩ সালে তনু জেঠুরই কালজয়ী ছবি ‘পলাতক’-এর হিন্দি রূপান্তর। এই ছবি করতে গিয়েই ওঁর কাছে অভিনয় শেখা শুরু।

আমাদের প্রজন্মের প্রতি 'তনু জেঠু'র অফুরন্ত স্নেহ ছিল। একই ভাবে কাজের সময় কড়া শিক্ষকও ছিলেন। সত্যিই একজন শিক্ষক একজন গুরু চলে গেলেন। আজ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় যা, যেটুকু, সবটাই তরুণ মজুমদারের কাছে অভিনয় শিক্ষার জোরে।

ALSO READ| Tarun Majumdar: যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে...

বেশ কিছু দিন ধরেই ভুগছিলেন বর্ষীয়ান এই পরিচালক। নিয়মিত ওঁর শারীরিক অবস্থার খবর রাখতাম। ইচ্ছে হলে আর ওঁর কাছে পৌঁছতে পারব না। কিছু জিগ্যেস করতেও পারব না। এ বার আমায় শিখতে হবে 'তনু জেঠু'র ছবি দেখে। ওঁর কাজ বাংলা এবং ভারতীয় সিনেমার গর্ব। ওঁকে কেউ ভুলতে পারবেন না। ওঁর কাজকেও না।

ALSO READ| Tarun Majumdar: তনুদা সিনেমার গল্পের সঙ্গে গানকে বুনে দিতেন