Sri Lanka President Election: রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে-ই শ্রীলঙ্কার নয়া প্রেসিডেন্ট, ত্রিমুখী লড়াইয়ে অনায়াস জয়

ত্রিমুখী লড়াইয়ে (Sri Lanka President Election) অনায়াস জয় পেয়েছেন রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে (Ranil Wickremesinghe)। তবে, শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ রনিলকে গোতাবায়া রাজাপক্ষের মিত্র হিসাবেই দেখেন।

Sri Lanka President Election: রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে-ই শ্রীলঙ্কার নয়া প্রেসিডেন্ট, ত্রিমুখী লড়াইয়ে অনায়াস জয়
শ্রীলঙ্কার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে

কলম্বো: প্রত্যাশা মতোই শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট (Sri Lanka President) নির্বাচিত হলেন রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে (Ranil Wickremesinghe)। বুধবার শ্রীলঙ্কা সংসদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের (Sri Lanka President Election) জন্য ভোটগ্রহণ হয়। ১৩৪ ভোট পেয়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে পিছনে ফেলে জয়ী হন রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে। প্রতিদ্বন্দ্বী দালাস আলহাপ্পেরুমা পেয়েছেন ৮২টি ভোট।  আর এক প্রার্থী আনুরা দিশানায়কে পেয়েছেন মাত্র ৩ ভোট।

চরম অর্থনৈতিক সংকটের জেরে উদ্ভুত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট পদে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন গোতাবায়া রাজাপক্ষে। গণবিক্ষোভের জেরে দেশে থাকারও ঝুঁকি নেননি শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন এই প্রেসিডেন্ট। গোতাবায়া ইস্তফা দেওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে। এদিন প্রেসিডেন্ট  নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রনিল বলেন, 'দেশ খুব কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে। আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।'

ত্রিমুখী লড়াইয়ে (Sri Lanka President Election) অনায়াস জয় পেয়েছেন রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে (Ranil Wickremesinghe)। তবে, শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ রনিলকে গোতাবায়া রাজাপক্ষের মিত্র হিসাবেই দেখেন। বিক্রমসিঙ্ঘেকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে মনোনীত করে গোতাবায়ার দল এসএলপিপি (SLPP)-ই। বিক্ষোভ সামাল দিতে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে জরুরি অবস্থার মেয়াদও বাড়িয়েছেন। পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছএ।

এদিকে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে (Sri Lanka President Election) রাজনৈতিক স্তরে ভারত প্রভাব খাটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের তরফে এক টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর খবর। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজনৈতিক স্তরে কোনওরকম  প্রভাব খাটায়নি ভারত। ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচার। কারও মস্তিষ্কপ্রসূত কল্পনা ছাড়া কিছু নয়।

বুধবার নির্বাচন (Sri Lanka President Election) ঘিরে শ্রীলঙ্কার সংসদ ভবনের বাইরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২ জন সাংসদ ভোটদানে বিরত ছিলেন। বাকি সকলেই ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন শুরুর আগে দ্বীপরাষ্ট্রের বিরোধী দলনেতা সাজিথ প্রেমদাস ভারতের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। এক টুইট বার্তায় তাঁর আর্জি, 'আমাদের দেশে যে দলেরই প্রার্থী জিতুন না কেন, ভারত সরকার যেন তাদের সমর্থন করে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। ভারতের সাহায্য ছাড়া দেশের চলতি সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।'

ALSO READ| Sri Lanka Crisis: শ্রীলঙ্কায় জারি জরুরি অবস্থা, সম্প্রচার বন্ধ জাতীয় টিভির 

৭৩ বছর বয়সি রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে রাজনৈতিক কৌশল ও বিচক্ষণতায় অনেকের থেকেই এগিয়ে। ছ-বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।  এসএলপিপির অনেক সাংসদই তাঁকে সমর্থন করেছেন। শ্রীলঙ্কাজুড়ে বিক্রমসিঙ্ঘে-বিরোধী হাওয়া প্রবল। গোতাবায়ার সঙ্গে বিক্রমসিঙ্ঘেও যাতে ইস্তফা দেন, সেই দাবি উঠেছিল। ফলে,  রনিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে, তা ভেবে অনেকেই সন্দিহান। 

ALSO READ| Sri Lanka Crisis: শ্রীলঙ্কা ছেড়ে সস্ত্রীক মালদ্বীপে আশ্রয় গোতাবায়া রাজাপক্ষের