Tarun Majumdar: 'চাঁদের বাড়ি' অন্ধকার করে চলে গেলেন 'গণদেবতা'র স্রষ্টা তরুণ মজুমদার

চিকিত্‍‌সকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চলে গেলেন তরুণ মজুমদার (Tarun Majumdar passed away)। বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। সোমবার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন 'দাদার কীর্তি', 'গণদেবতা', 'চাঁদের বাড়ি'-র রূপকার (Tarun Majumdar passed away)।

Tarun Majumdar: 'চাঁদের বাড়ি' অন্ধকার করে চলে গেলেন 'গণদেবতা'র স্রষ্টা তরুণ মজুমদার

কলকাতা: গত কয়েক দিনের লড়াই শেষ হল। ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দিয়েও শেষরক্ষা হল না। জীবনযুদ্ধে হার মানলেন 'দাদার কীর্তি'র স্রষ্টা তরুণ মজুমদার (Tarun Majumdar passed away)। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোমবার সকাল ১১টা বেজে ১৭ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ চিত্র পরিচালক (Tarun Majumdar passed away)। ২১ জুন থেকে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিত্‍‌সাধীন ছিলেন পরিচালক। তরুণ মজুমদারের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, 'বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক তরুণ মজুমদারের প্রয়াণে আমি গভীর শোকপ্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। ভিন্নধারার রুচিসম্মত সামাজিক চলচ্চিত্র নির্মাণে তরুণ মজুমদার উজ্জ্বল নিদর্শন রেখে গেছেন। তাঁর ছবিতে রবীন্দ্রসংগীতের প্রয়োগ দর্শককে আবিষ্ট করে রাখে। তরুণ মজুমদার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র , 'বালিকা বধূ', 'শ্রীমান পৃথ্বীরাজ', 'ফুলেশ্বরী', 'দাদার কীর্তি', 'ভালবাসা ভালবাসা', 'সংসার সীমান্তে', 'গণদেবতা', 'শহর থেকে দূরে', 'পথভোলা', 'চাঁদের বাড়ি', 'আলো' ইত্যাদি উল্লেখের দাবি রাখে। তিনি পদ্মশ্রী, জাতীয় পুরস্কার, বিএফজেএ পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড-সহ বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁর প্রয়াণ চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তরুণ মজুমদারের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।'

তরুণ মজুমদারের শেষ ইচ্ছে ছিল, মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহে যেন কেউ ফুল বা মালা না দেন। কোনও শোক যাত্রার আয়োজন না করা হয় । কিংবা  সরকারি কোন প্রেক্ষাগৃহে তাঁর মরদেহ যেন নিয়ে যাওয়া না হয়। তরুণবাবু এবং তাঁর পরিবারের ইচ্ছেকে মর্যাদা দিতে মরদেহ নিয়ে কোনও বাড়াবাড়ি  করা হচ্ছে না। সিপিএম নেতা রবীন দেব এবং শতরূপ ঘোষ জানান, এসএসকেএম  হাসপাতালে থেকে এনটিওয়ান স্টুডিওতে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর দেহ। সেখান থেকে আবার এসএসকেএমের একাডেমিক বিল্ডিং এ নিয়ে আসা হবে। দেহ দান করা হবে হাসপাতালে।  সেরকমই ইচ্ছে ছিল প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালকের।

প্রয়াত পরিচালককে শেষশ্রদ্ধা জানাতে রাজ্য সরকারের তরফে 'গান স্যালুট' দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর পরিবারের সদস্যদের আপত্তি রয়েছে। সিপিএম নেতৃত্ব জানিয়েছে, তরুণ মজুমদার এসবের অত্যন্ত বিরোধী ছিলেন। তাই সরকারি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

রাজ্য তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন জানান, প্রয়াত চিত্রপরিচালকের পরিবার যেমনটা চাইবেন, সেইমতো ব্যবস্থা করা হবে। তরুণ মজুমদারের মৃত্যুর খবর শুনে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনিও একই কথা জানান। সিপিএমের তরফে আবেদন করা হয়েছে, প্রয়াত চিত্র পরিচালককে শেষশ্রদ্ধা জানাতে এলে, কেউ ফুল বা মালা আনবেন না।

ফেসবুক পোস্টে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় লেখেন, 'সত্যজিত্‍ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন এবং তপন সিনহা অন্তর্ভুক্ত কিংবদন্তি নক্ষত্রপুঞ্জের শেষটি এবং যার সিনেমাটিক মহত্ত্ব বক্স অফিসের সাফল্য, চলচ্চিত্র উত্‍সবের গৌরব এবং পুরস্কার নিয়মিত ভাবে প্রশংসার বিরল আলকেমিক্যাল কোড ক্র্যাক করেছে, তিনি আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। 'নিমন্ত্রণ', 'শ্রীমান পৃথ্বীরাজ', 'সংসার সীমান্তে', 'পলাতক', 'কাচের স্বর্গ, 'গণদেবতা', 'চাওয়া পাওয়া', 'বালিকা বধূ', 'দাদার কীর্তি'-তালিকাটি বিস্তৃত এবং অনুকরণীয়। চির-বিদায় তরুণ মজুমদারকে। ভাল থাকুন কিংবদন্তি।

কিংবদন্তি পরিচালকের মৃত্যুতে শোকবিহ্বল টালিগঞ্জের স্টুডিয়োপাড়া। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন,  'ওঁর সঙ্গে কাজের বহু স্মৃতি রয়েছে। তরুণ মজুমদারের সঙ্গে আমার প্রথম ছবি 'আলো', বাংলা সিনেমার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। নিঃসন্দেহে একটা ল্যান্ডমার্ক ছবি। তরুণবাবু বাংলা সিনেমার স্তম্ভ। ওঁর 'চাঁদের বাড়ি' ছবিটিতেও অভিনয় করেছি। বাংলা সিনে ইন্ডাস্ট্রিকে সমৃদ্ধ করতে ওঁর অবদান অপরিসীম।'

ALSO READ| Medicine Price: প্যারাসিটামল-সহ ৮৪টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল কেন্দ্র

আর এক অভিনেত্রী শতাব্দী রায় বলেন,  'তরণ মজুমদারের সঙ্গে শুধু কাজ করার অভিজ্ঞতা নয়, গল্প করার অভিজ্ঞতাও দারুণ। আমি যখন এনটিওয়ান স্টুডিয়োতে শ্যুটিং করতাম, কাজের অবসরে খালি ওঁর সঙ্গে গল্প করার সুযোগ খুঁজতাম। মুখিয়ে থাকতাম, কথা বলার জন্য। তখন ওঁর অফিসও ছিল ওই স্টুডিয়োতেই। কী দারুণ সেন্স অফ হিউমর মানুষটার। পুরনো দিনের কত গল্প করতেন। শিক্ষকরা যেমন ছাত্রদের প্রতি কড়া ছিলেন, উনিও তেমনি আমাদের কাছে অভিভাবক ছিলেন। কোনও ভুল হলে ধরিয়ে দিতেন। এত মিষ্টি প্রেমের ছবি যে হতে পারে, সেটা তরুণ মজুমদার দেখিয়েছিলেন বাঙালি দর্শকককে।'

তরুণ মজুমদারের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের উল্লেখ করে ইন্দ্রনীল সেন বলেন, 'যা ঘটে গেল, সেটা ভাষায় আমি বলতে পারছি না। শ্রীমান পৃথ্বীরাজ, থেকে শুরু করে দাদার কীর্তি অগুনতি তাঁর কাজ। অনেক নতুন নায়ক- নায়িকাকে তিনি সুন্দর ভাবে কাজে লাগিয়েছেন। তাপস পাল সহ অনেক বিখ্যাত অভিনেতা, অভিনেত্রী ওনার হাতেই তৈরি ।'

ALSO READ| Black Hatred US: আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ খুন আবারও! পুলিশের ৬০ রাউন্ড গুলিতে ঝাঁঝরা যুবক