সংস্কৃত দিবস ও বাংলা সংস্কৃতি

শ্রীমদ্ভগবত গীতা কোনও ধর্মগ্রন্থ নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে প্রকৃত আলোর দিশা। আজ, ২২ অগস্ট, বিশ্ব সংস্কৃত দিবসে সংস্কৃত ও বাংলা সংস্কৃতির কয়েক কথা।

সংস্কৃত দিবস ও বাংলা সংস্কৃতি

সংস্কৃত বলতে কি শুধু রামায়ণ মহাভারত কালিদাস? আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িত যে কোনও বিষয় তা সে অর্থশাস্ত্র, নীতিশাস্ত্র, চিকিত্‍‌সাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান, যোগ, নৃত্য, গীত থেকে শুরু করে দর্শনের যে মূল কথা বলা আছে, তা বিশ্বের কাছে মহার্ঘ্য স্বরূপ। বিশ্ব সংস্কৃত দিবসে আলোকপাত করলেন শিক্ষাব্রতী-প্রাবন্ধিক অনামিকা মুখোপাধ্যায় 

বিশ্ব সংস্কৃত দিবস ।। World Sanskrit Day

আজ (২২ অগস্ট) শ্রাবণ পূর্ণিমা। আমরা সবাই জানি আজ রাখিবন্ধন উত্‍সব। কিন্তু আজ আরও যে একটি বিশেষ উত্‍‌সবের দিন— আজ সংস্কৃত দিবস, তা ক'জন মনে রেখেছি? ভারতে ১৯৬৯ সালে প্রথম শুরু হয় সংস্কৃত দিবস পালন। বিশেষত, এই বাংলায় সংস্কৃত বরাবরই ব্রাত্য থেকে গেছে। ভাষা যদিও নদীর মতো, জীবনের নানান ছন্দে বহু শাখা-প্রশাখায় তার প্রকৃতি বদলায়। তবু উত্‍‌সটুকু আছে বলেই না তার এত রূপ রস আর রং! আসল কথা হল, ভাষা নয়— ওই ভাষায় লেখা বিষয়গুলি! যা আজ সারা পৃথিবীর মানুষ গ্রহণ করেছে। তাই শুধু ভারতে নয়, সারা বিশ্বে পালিত হয় World Sanskrit Day হিসেবে।

সংস্কৃত বলতে কি শুধু রামায়ণ মহাভারত কালিদাস? আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িত যে কোনও বিষয় তা সে অর্থশাস্ত্র, নীতিশাস্ত্র, চিকিত্‍‌সাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান, যোগ, নৃত্য, গীত থেকে শুরু করে দর্শনের যে মূল কথা বলা আছে, তা বিশ্বের কাছে মহার্ঘ্য স্বরূপ। শ্রীমদ্ভগবত গীতা কোনও ধর্মগ্রন্থ নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে প্রকৃত আলোর দিশা। দর্শন কতখানি সূক্ষ্ম হলে জ্ঞান কতখানি গভীর হলে উপনিষদের সৃষ্টি হয়েছে, তা এক পরম আশ্চর্যের বিষয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ওই জ্ঞানের ভাণ্ডারের তিন ভাগের একভাগ লাভ করতে পেরেছি মাত্র। বাকি তিন ভাগই ধ্বংস হয়ে গেছে, ভারতে বারবার বহিঃশত্র‌ুর আক্রমণে।

শোনা যায়, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার নিরবচ্ছিন্ন ভাবে তিন দিন লেগেছিল অগ্নিদগ্ধ হতে। এই ভয়ংকর করুণ ইতিহাস আমরা যেন ভুলে না যাই। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তাকে শ্রদ্ধা করি, গ্রহণ করি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে। এই হোক আজ সংস্কৃত দিবসের প্রার্থনা!  ♥♥

আ মরি বাংলা-র আরও খবর পড়তে ক্লিক করুন: www.amar-ebangla.com